আটকে কয়েক হাজার তীর্থযাত্রী, ফের থমকে গেল অমরনাথ যাত্রা।

Photo of author

By S.G

জম্মুতে প্রবল বৃষ্টি, কোথাও কোথাও ভূমিধস। রবিরার দ্বিতীয় দিনেও বাতিল করা হয়েছে অমরনাথ যাত্রা। ফলে জম্মু ও অমরনাথ যাওয়ার পথে তীর্থযাত্রীরা বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন। শনিবারের প্রথম যাত্রা বৃষ্টির কারণে বাতিল করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং বলেছেন, “তীর্থযাত্রীদের ভয়ের কোনো কারণ নেই। সরকারি কর্মকর্তারা পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। তীর্থযাত্রীদের অমরনাথ তীর্থযাত্রা কর্তৃপক্ষ যা বলবেন সেটাই মেনে চলুন।”আটকে হাজার হাজার তীর্থযাত্রী, ফের বন্ধ অমরনাথ যাত্রা

বৃহস্পতিবার থেকে জম্মু ও সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পাশাপাশি মহাগুন টপ-সহ অমরনাথ গুহার আশপাশের এলাকায় তুষারপাত শুরু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোথাও কোথাও রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে। আগামী কয়েকদিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। অমরনাথ শ্রাইং বোর্ড জানিয়েছে যে আবহাওয়া এবং ভারী বৃষ্টির কারণে পহেলগাম এবং বালতাল উভয় রুট বাতিল করা হয়েছে। ভগবতীনগর বেস ক্যাম্পে থাকা তীর্থযাত্রীরা আপাতত সেখানেই থাকবেন। আবহাওয়া ঠিক থাকলে আবার যাত্রা শুরু হবে।

এ বছর এ পর্যন্ত ৮০,০০০ মানুষ অমরনাথ গুহা পরিদর্শন করেছেন। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩৮৮৮ মিটার উচ্চতার এই তীর্থস্থানে তীর্থযাত্রীরা আসতে শুরু করেছেন। পেহলহগাম ও বালতাল হয়ে তারা অমরনাথ যাচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে জম্মু ও জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়ের বিভিন্ন স্থানে তীর্থযাত্রীরা আটকা পড়েছেন। কেউ কেউ বেসক্যাম্পে থেকে গিয়েছেন।

কানপুরের তীর্থযাত্রী দিপু ভগবতীনগর বেসক্যাম্পে অবস্থান করছেন। গণমাধ্যমে তিনি বলেন, “ভেবেছিলাম শনিবার যাত্রা করতে পারব। কিন্তু এই আবহাওয়া ও হাইওয়ে বন্ধ থাকায় আমরা বের হতে পারিনি।” সুরজ শর্মা গাজিয়াবাদের বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন,” তীর্থযাত্রীদের জন্য করা ব্যবস্থা খুবই ভালো। অমরনাথের উদ্দেশে বেরিয়ে পড়ুন। একমাস আটকে থাকলেও থাকব।”

গত শুক্রবার রামবন জেলার চান্দারকোটে ৪৬০০ তীর্থযাত্রীকে আটক করা হয়। কারণ ওই যাত্রীদের যেতে দেওয়া হলে পহেলগামে বেস ক্যাম্প উপচে পড়ত। মহারাষ্ট্রে থেকে আসা শ্যাম সাহু আটকে আছেন চন্দেরকোটে। তিনি বলেন, “কয়েক বছর ধরে এই যাত্রার পরিকল্পনা করেছি। এখন ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় আছি। এখানে কোন সমস্যা নেই। সরকার আমাদের থাকা, খাওয়া ও নিরাপত্তার ভালো ব্যবস্থা করেছে।”

তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে সেনাবাহিনী নজরদারি বাড়িয়েছে। সেনাবাহিনী ড্রোন, স্নিফার ডগ এবং অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে জম্মু-শ্রীনগর হাইওয়েতে পেট্রোল দিতে শুরু করেছেন। সরকারের তরফে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, “সেনা জম্মু থেকে বানিহাল টানেল পর্যন্ত নজরদারি চালাচ্ছেন।” নর্দান সেনা কমান্ডার পুরো বিষয়টি দেখছেন।

Leave a Comment