খাওয়ার পর মিষ্টি খেতে চাইলে গুড় খান, এই অভ্যাসে শরীরে কি কি পরিবর্তন আস্তে পারে?

Photo of author

By S.G

গুড়ের সাথে শীতের সম্পর্ক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তবে তা খেজুরের গুড়। তবে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চিনির বিকল্প হিসেবে আখের গুড় ব্যবহার করে আসছেন। ডাল, তরকারি, চাটনির মতো দৈনন্দিন রান্নায় গুড় ব্যবহার করা হয়। আগে কিন্তু খাওয়ার পরেও গুড় খাওয়ার প্রবণতা ছিল। এটা কি শুধু মিষ্টির বিকল্প? নাকি গুড়ের অন্য কোনো গুরুত্ব আছে? পুষ্টিবিদরা বলছেন, গুড় লৌহ, ভিটামিন সি, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়ামের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থে সমৃদ্ধ। তাই শরীরে মিনারেলের ঘাটতি পূরণ করতে পরিমিত পরিমাণে গুড় খাওয়া যেতে পারে। তবে গুড়ের উপকারিতা বুঝতে হলে এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে।

jaggery
jaggery

খাওয়ার পর গুড় খেলে কি উপকার হয়?

1) খাবারের পর সামান্য গুড় খেলে হজমের এনজাইম আরও সক্রিয় হয়। যা পেট ফাঁপা, বদহজমের মতো সমস্যা নিরাময় করে।

2) গুড় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস। ভারী খাবারের পর অল্প পরিমাণ গুড় খেলে শরীরে ফ্রি র‌্যাডিক্যাল নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে শরীরের ক্ষতি প্রতিরোধ করে।

৩) ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ভালো মেটাবলিজম থাকতে হবে। খাবারের পর গুড় খেলে মেটাবলিজম ভালো হয়। এই কৌশলটি ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে।

4) গুড় শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে। লিভার সঠিকভাবে কাজ করতে চাইলে প্রতিদিন অল্প করে গুড় খাওয়া উচিত।

5) রক্তশূন্যতার সমস্যা বেশির ভাগ শিশু, মহিলাদের মধ্যে দেখা যায়। এই সমস্যা সারাতে অনেকেই কুলেখারা পাতার রস খেয়ে থাকেন। তবে প্রতিদিন কুলেখারা পাতার রস খাওয়া ভালো নয়। বিশেষ করে এই গরমে। এর পরিবর্তে অল্প পরিমাণে গুড় খাওয়া হলে তা রক্তে লোহিত কণিকার পরিমাণও বাড়িয়ে দেয়।

6) গ্রীষ্মে খুব ক্লান্ত লাগছে কিন্তু বাড়িতে ‘ORS’ নেই? এক গ্লাস পানিতে সামান্য গুড় মিশিয়ে শরবত তৈরি করুন। আপনি চাইলে ওই পানীয়তে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসও মিশিয়ে নিতে পারেন। বাড়ি ফেরার পর এই পানীয় পান করলে তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর হবে।

৭) গুড়ের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গ্লাইকোলিক অ্যাসিড রয়েছে। নিয়মিত গুড় খেলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়বে। পরিষ্কার, দাগমুক্ত ত্বক পেতে আপনাকে কোরিয়ান প্রসাধনী প্রয়োগ করতে হবে না।

Leave a Comment